স্লো পয়জনের ফাইল

 




 1. সমাজ সংসার

অনেকদিন পর

জবাগাছে ফুল ফুটেছে

ছড়ানো -ছিটানো সংসার

ছাত্র কার্নিশে ল্যাজঝোলা

অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে তুলসী মঞ্চে 



          2  . তীক্ষ্ণ সূচে


ফুটপাতে

তোরা দুই ভাবেন, একটি আমার আঁটি

ঝগড়া শুরু। না- থেকে ঘুমিয়েছে রাণা

পড়ন্ত বিকেলে তীক্ষ্ণ সূচী মিহি সুতোয়

সম্পর্কের থলি বোনে মা। 

অন্ধকার নামলে ,গুটিগুটি দুটি শৈশব

ঠাকুমার কোলে


3.  বিক্ষোভ


দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ ডাক নেই

একটা স্পঞ্জ আয়রন কারখানা ,

গিলে খাচ্ছে সামনের পলাশবন  ।

হেঁটে যাওয়া রাস্তাগুলো কংক্রিট বুনিয়াদ

আমি আড়ষ্ট পাশে হেঁটে যাই


বিক্ষোভের আলো নিয়ে ফেটে পড়ছে চাঁদ। 



4. পোকা

আমার সঙ্গে আরোগ্য সকল 

জেগে উঠছে পাখিদের সকাল

মুহূর্তের মধ্যে একটি পোষার জন্ম হল মাথায়:

কোথায় ফেলে এসেছি সন্ধ্যা তারা

কোথাও ফায়ার স্টেশন

এ মুখ সে মুখ খুঁজে খুঁজে বাড়ি ফিরে আসা



5. সুভাষিণী


শ্যাওড়া গাছের তলা আদুনি কাঁদুনি থান

একটা মাদাল পাতা নামায় সুভাষিণী

 ঘুঁটে কুড়ানির গল্প তো অন্নদামঙ্গলে


সুভাষিণী কাপালিক গল্প জানে না

সে জানে গেছে গাছে দেবদেবী

ঘরে ধরে শালগ্রাম শিলা


6.জিঞ্জাসা


কিছু কথা বলুন মাস্টারমশাই

রবি ঠাকুরের সোনা তরী আটকে আছে

আমাদের পানা পুকুরে

ওই দিকে হেঁটে যার অমল


চিঠি আসে চিঠি যায়

পুরো সেই ডাকঘর


7.পিরিতি 


সম্পর্ক মলিন হল 

পাঁচিল টপকে আবার ফিরে আসি

আমার খেলনাপাতির সংসারে ।

সেখানে ধূপ জ্বলে ।ধূপের সুবাসে

আমি বিলীন হয়ে যাই। 


খুঁজতে থাকি পিতৃলোক রক্ত মাংস


8.উলট পুরাণ


আর পারছি না স্যার

আপনাদের পাইপ লাইন জল 

তেল দেওয়া বাঁশ বাঁদরের ওঠানামা, প্ল্যানফর্মের দৈর্ঘ্য

দীর্ঘ কতেক বছর বাদে "তাকে জমিন পরে"


উলট পুরাণের গল্প এখানেই শুরু 


9. কর্পোরেট


আর ভেবোনা রীতিনীতি নিয়ে

রিপোর্ট দুনিয়ার এটা রেওয়াজ

শক্তিহীন পাল্টে যার ইতিহাস

তাদের দশাশ্বমেধ সমাজ দাঁড়ায় এখন

বাঁদর নাচে ডুগডুগি বাজে


শরীরে শরীরে সুইচ

টিপলে হাসে টিপলে কাঁদে

এই আমাদের কৃতী বিশ্ব


10. লুটেপুটে 


দাঁড়াও বাবা

ভিক্ষুক ঝুলি দেখি

লুটে খাওয়ার পরও

আমার চাই অন্ধ্র দানাটি


সার্বিক উন্নমন মানে

ঘাস তিলে মাটি বের করা

এখন চকচকে বোলোরে আসে এ পথে


কতদিন ধরে শুনে আসছি

ন্যাটা ধুতির গল্প........


11. ঘন্টা


কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাকিয়ে দেখি

সময় হয়েছে কিনা

সূর্য নিশ্চিন্তে মাথার উপর আসে, নেমে যায়

ঝরে পড়ে শুকনো ডালপালা

দুএকটা পাখি ওড়ে 

এই সময় বেজে ওঠে ছুটির ঘন্টা


ভূগোল ক্লাস ফাঁকি, অঙ্কন একক দশক শতক

হিসেব শেষ, মাত্র শেষদিন


12. মিড ডে মিল


পড়া শেষ না হতেই খেলার বাজনা স্কুলে স্কুলে

আহার পর্ব শেষ নিদ্রাতে থাকেন 

আমাদের পোড় খাওয়া পণ্ডিতমশাই

ঘোর না কাটতেই তাঁকে ডেকে নিতে যায় ভেক কমিটি

খামোকা দিনের পর দিন গন্ধ ছড়া বর্ণপরিচয় সহজপাঠ


চাদর মুড়ে বিদ্যাসাগর আসেন নির্জন শ্রেণীকক্ষে



13.  নগরায়ণ


বারোয়ারি মাঠ পেরিয়ে নিজেকে গড়ে তুলি

একটা আস্ত শহর । আমার বলতে বসে মারি জেলেনি

মাছ বিক্রি করে । সাধু গোয়ালা দুধ, 

ঝুনঝুনওয়ালা শাড়ি


আমার প্রাণ,  অটোর হর্ণ , আর কিছু বোকা পায়ের শব্দ 

সন্ধের দিকে স্বর যন্ত্রটা বাঁশি হয়ে বাজে

তখন আমার যন্ত্র চ্যার্লি চ্যাপলিন হবে নাচে 


14.  স্বপ্নে  স্বপ্নে


সকাল দশটার ব্যস্ত শহর

মোড়ের মাথায় করিনা কাপুর

ঝলসে ওঠা তরুণ চোখ

স্বপ্নে স্বপ্ন লেপ্টে আছে তাঁদের আলো

তার সঙ্গে রাত কাটিয়ে ভোর

 উদ্বেগে আজ নগ্ন সব


ঘুমো সঙ্গে জড়িয়ে আছে তিনটি পুতুল 


15.   বেকার ব্যাধি 


কেন চুপ থাকতে পারছি না 

যন্ত্রণা হচ্ছে

সব কিছু নিস্তব্ধতার পর

আবার ডেকে তুলল বালাজি গ্রুপ, 

কর্মসংস্থান ঘরে ঘরে

নতুন এই বেকার ব্যাধি নিয়ে দিন গুজরানো


16.  ম্যাগাজিক


ছেলেরা ভালুক নাচাবে

ছেলেরা বাঁদর নাচাবে

চাইলে রক্ত দিকে দেখাবে ম্যাজিক:

আমাদের দু'বিঘা জমি 

আমাদের আত্মহত্যা 


17. গাজন


ছেলেমেয়েরা নাচছে

বাজছে, চিত্র বাক্স ভাঙা

কেউ পার্বতী কেউ শিব

কেউ হনুমান


কারো বাড়িতে সামান্য চাল 

কারো কারো বাড়িতে আট আনা

ক্ষোভ নিয়ে আসে ভোজন রসিক

তার চওড়া সুরে:আর রঙ্গিন মশাই

আমার ভারত মান ভারত 


18.মেগাসিটি


সংকট পরিস্থিতি

ঈশ্বর কুলুঙ্গিতে 

ধুনুচি থেকে একটু আগুন ছিটকে

প'ড়েছে তাঁর পায়ে

দেওয়ালে পিঁপড়ের লাইন

অকাল বিসর্জন

তিলে দে মা মেগাসিটির উড়ালে


19.  চ্যাট


ভালবাসার ঘরগুলিতে দরজা নেই

আছে মোবাইলে ম্যাসেজ

কোথাও ঢোকার আগে মাউস ধরে 

খুল যা শিম....শিম...

হাসিনার সঙ্গে দেখা সাবিনার সঙ্গে দেখা

মাধুরী সঙ্গে কথা আসুরিক সঙ্গে কথা....


20.  পুঁজি


দাঁড়াও রহুন চাচা

আমাদের জমিহারা শিল্পায়ন দেখে যাও

ফিলবেড়ের চটকলের পর হলদিয়ার হলদিতে লাশ। 

চলো, সিঙ্গুরে দেখে আসি

কুলজী গণেশের মাথায় ঠেকিয়ে জিতেছেন রাজতন্ত্র


আমাদের রক্তে রক্তে গণতন্ত্র 


21.  মুখোমুখি


ঘন হবে আসছে চোখের জল

আলুভাতের পৃথিবীতে আজ চাই আপেল। 

সকল সম্পর্ক বোঝাপড়া থাকে না।

থাকে শুধু ধাঁধা অঙ্ক -

মুখোমুখি প্রতিযোগিতায় সময় কাটে ।আর

ছেঁড়া চিঠি পত্র জোড় করে

কেউ বলে, এই সম্পত্তি আমার

তুমি খালি বাক্স ।


22.   মরচে ধরা শ্যাওলা ধরা


ঘুম চেখে কাতুকুতু দিয়ে গেলে তুমি- 

মরচে ধরা নিপপেন খুঁজছেন চণ্ডীদাস 

কোথায় আমার বাড়ি তার কৌণিক মাপ কত

শ্যাওলা ধরা ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে বারান্দা 

দাদাঠাকুরন পড়ে চলেছেন  'অভিঞ্জান শকুন্তলম'

বিদ্যাসাগরের নামে মেলা বসে মেলা ভাঙে

ধুলো উড়ে আকাশে আকাশে 


23.  বিপন্নতা


দীর্ঘায়িত শ্বাস

আমাকে কেটে- ছেঁটে ছিন্নভিন্ন করে 

আমি অবাক পৃথিবীর বাতায়নে

দেখছি ন্যানো গাড়ির গতি-

বিপন্নপতা চাকুরে আছে প্রগতির দিকে


24. 







Comments