পুরুলিয়ার তরুণ কবি

 একেক সময় এক ঝাক তরুণ কবি  নতুন উদ্দাম নিয়ে আসেন ।কয়েক বছর বেশ ভালো লেখেন তার পর কালক্রমে হারিয়ে যায় ।কারণ অবশ্যই জীবন জীবিকার  ।কলেজ পড়ার আমার সঙ্গে কয়েকজন কবির সঙ্গে পব়িচয় হয়েছিল,তারা কেউ কেউ এখনও লেখেন।তাঁদের লেখা অনেক বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।তাঁদের মধ্যে কেউ প্রতিষ্ঠিত ।এঁদের সঙ্গে মেলা মেলার সুবাদে নানা গলির যাতাযাতের গল্প শুনেছি।শুনেছি লবিবাজির কথাও। ম্যাগাজিনে জায়গা পাওয়ার জন্য কাচ্চি ঘানি তেল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুুরে বেড়ানো ছাড়াও সিনিয়ারদের তোশামোদ করা ,বিনিময়ে কবিতা ছাপানো ইত্যাদি  ।

পুরুলিয়া কাব্য চর্চার উর্বর জায়গা । শূন্য দশকে যে সকল তরুণ পুরুলিয়ার নাম উজ্জ্বল করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিমন্যু মাহাত।পুরুলিয়ার বুকে প্রথম তরুণ কবি সাহিত্য অকাদেমি যুবা  স্বীকৃতি পেয়েছে ।তবে অভিমন্যুর পাশাপাশি যাঁদের নাম উল্লেখ করা যায় তাঁরা হল রাজীব ঘোষাল, পীযুষ বন্দোপাধ্যায়,অচিন্ত্য মাজী,সুমিত পতি,উত্তম মাহাত সুপ্রিয় দেওঘরিয়া, কৃষ্ণ মন্ডল । নব্বই দশকে এক ঝাঁক তরুণ কবির কবিতা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে ।মুজীবর আনসারী বিশ্বম্ভর নারায়ণ দেব সোমেন মুখোপাধ্যায়, আশিষ   গঙ্গোপাধ্যায়,দিলীপ বন্দোপাধ্যায় রঞ্জন আচার্য,সুব্রত দেওঘরিয়া,সুব্রত মুখোপাধ্যায়,সোমনাথ হাজরা,অতনু চক্রবর্তী  উজ্জ্বল রায়, সুকুমার মন্ডল, কবিতা সিংহ বিশ্বজিত লায়েক। সকলের নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয় ।

বাংলা ভাষা সাহিত্যকে পুরুলিয়ার কবিগণ সমৃদ্ধি এতটাই করেছে যে কোনো মফঃস্বল জেলায়  এত সংখ্যক কবি দেখতে পাওয়া যায় না ।শুধু তাই নয় ,পুরুলিয়া থেকে অসংখ্য লিটিল ম্যাগাজিন বের হয় ।কবিতা চর্চা হয় ।কাব্য প্রকাশিত হয় ।গদ্য চর্চা হয় ।কবিতা পাঠ হয় ।আবার সমালোচনাও হয় । আবার কবিতাকে কেন্দ্র করে  বিভিন্ন গোষ্ঠী তৈরি হয় ।গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে কবিতা পাঠ ,লিটিল ম্যাগাজিন প্রকাশ ইত্যাদি কাজগুলি সুষ্টভাবে হয়ে থাকে ।আবার বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। পুরুলিয়ার বুকে শুধু বাংলা কবিতা নয় আঞ্চলিক ভাষার কবিতা সমৃদ্ধ ।মানভূম ভাষায় লেখেছেন অনেকেই ।কুড়মালী ভাষাও ।

Comments

Popular posts from this blog

স্লো পয়জনের ফাইল